জাতীয় সংসদ ভবনে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের অপচয় কমানো ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভবনের সব বাতি সেন্সরের আওতায় আনা, বিদ্যুৎ বিল আদায়ে প্রিপেইড বা সাব-মিটার স্থাপনসহ একাধিক সুপারিশ করেছে এ বিষয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি।
সোমবার (২ নভেম্বর) সংসদ ভবনে কমিটির দ্বিতীয় সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সভায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে একটি ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়। এ সময় সংসদ ভবনের বিদ্যুৎ চাহিদা, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, ভবনের বায়ু চলাচল এবং সোলার প্যানেল স্থাপনের উপযোগী অব্যবহৃত জায়গা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ডিপিডিসির মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সভায় প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হবে।
বিদ্যুতের অপচয় রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংসদ ভবনের সব লাইট ও বাতি সেন্সর ব্যবস্থার আওতায় আনার সুপারিশ করেছে কমিটি। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা এবং অপচয়ের ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সংসদ ভবন কমপ্লেক্সে অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের শাখা ও আবাসিক এলাকার বিদ্যুৎ বিল যথাযথভাবে আদায়ের জন্য সাব-মিটার অথবা প্রিপেইড মিটার স্থাপনের সুপারিশ করা হয়।
মসজিদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ব্যবহারের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংসদ অধিবেশন চলাকালে নামাজের এক ঘণ্টা আগে এবং অন্য সময়ে নামাজের আধা ঘণ্টা আগে মসজিদের এসি চালু করার সুপারিশ করা হয়েছে।
সভায় কমিটির সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিন, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, মো. সাইফুল আলম ও মারদিয়া মমতাজসহ সংসদ সচিবালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, ডিপিডিসি ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।